প্রকাশকাল: শনিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬ | সময়: সকাল ৫:৪৫ মিনিট

ছবি: জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করছেন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
TIME TV24 EXCLUSIVE | ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ প্রদর্শনীতে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই কেন? যে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত আমির
রাজধানীর মিন্টো রোডে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী শনিবার শেষ হয়। প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি থাকলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি নেই—এ বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গও প্রদর্শনীতে আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।
তবে পুরো প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু, এর কাঠামো এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ব্যাখ্যা সামনে রাখলে বিষয়টিকে শুধু একটি ছবি থাকা বা না থাকার প্রশ্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি কীভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের বিভিন্ন সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে তুলে ধরেছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
১. প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা
জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে শুধু জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে আলাদা করে দেখানো হয়নি। বরং ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশের নামকরণও ছিল আলাদা। এতে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘একনায়কতন্ত্র’, ‘সামরিক স্বৈরশাসন’, ‘ফ্যাসিবাদ’ এবং ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’—এ ধরনের শিরোনামের মাধ্যমে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থাৎ আয়োজকদের উপস্থাপনায় এটি কেবল কোনো একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারণামূলক প্রদর্শনী নয়; বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা।
২. শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবিও প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে
প্রদর্শনীর ‘মুক্তিযুদ্ধ’ অংশের শুরুতেই শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রাখা হয়েছে। সেখানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের ছবিও রয়েছে।
ছবির সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ঐতিহাসিক ভাষণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ৭ মার্চের ভাষণকে বাদ দেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা, পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ, জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন এবং সর্বশেষ বিজয়ের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
৩. একই ব্যক্তির রাজনৈতিক জীবনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকই দেখানো হয়েছে
প্রদর্শনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শেখ মুজিবুর রহমানকে শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ে উপস্থাপন করা হয়নি।
একদিকে তাঁর ৭ মার্চের ভাষণের ছবি রাখা হয়েছে, অন্যদিকে পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ১৯৭৫ সালের ঘটনাপ্রবাহকে ‘একনায়কতন্ত্র’ অংশে তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থাৎ আয়োজকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিহাসের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন সময়ের ভূমিকা আলাদাভাবে দেখানোর চেষ্টা রয়েছে। সমর্থকরা এটিকে ইতিহাসকে একমাত্রিকভাবে না দেখিয়ে বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
৪. জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠেছে
প্রদর্শনীতে জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি না থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত রাজনৈতিক চরিত্র।
বিশেষ করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা, পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে তাঁর অবস্থান—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে।
তাই প্রদর্শনীর মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশে তাঁর ছবি বা ভূমিকা না থাকাকে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে প্রশ্নের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
৫. এ বিষয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াত আমির
বিতর্কের মধ্যেই শনিবার বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি রাখা হয়েছে, তাহলে জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি কেন রাখা হয়নি।
জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রদর্শনীর একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল। যাদের আয়োজকেরা কর্তৃত্ববাদী, আগ্রাসী, জুলুমবাজ বা স্বৈরাচারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, মূলত তাদের রাজনৈতিক সময় ও ঘটনাপ্রবাহকে নির্দিষ্ট অংশে তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানকে তাঁরা সেই শ্রেণিতে রাখেননি। ফলে প্রদর্শনীর ওই কাঠামোর মধ্যে তাঁর ছবি না রাখার বিষয়টি আয়োজকদের নির্দিষ্ট উপস্থাপনাভঙ্গির অংশ।
৬. ‘ছবি নেই’ মানেই ইতিহাস অস্বীকার—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না
একটি ঐতিহাসিক প্রদর্শনীতে কোনো ব্যক্তির ছবি থাকা বা না থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিকে পুরো ইতিহাসের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে।
একটি প্রদর্শনীতে সীমিত জায়গা, নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এবং আয়োজকদের নির্বাচিত কাঠামোর কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ঘটনা বাদ পড়তে পারে।
এক্ষেত্রে জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে এবং যাদের যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, সেগুলোর প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল।
সুতরাং জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এটিকে সরাসরি তাঁর পুরো রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা অস্বীকার হিসেবে ব্যাখ্যা করার আগে আয়োজকদের বক্তব্যটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
৭. প্রদর্শনীতে শুধু আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে নিয়ে আলোচনা করা হয়নি
প্রদর্শনীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বিস্তৃত সময়সীমা।
১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা এখানে স্থান পেয়েছে।
অর্থাৎ আয়োজকেরা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে দীর্ঘ সময়ের একটি ধারাবাহিকতায় দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
৮. খালেদা জিয়া ও জামায়াত নেতাদের আন্দোলনের ভূমিকাও তুলে ধরা হয়েছে
‘সামরিক স্বৈরশাসন’ অংশে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতের বর্তমান নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার তথ্য ও ছবি রাখা হয়েছে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রদর্শনীতে শুধু জামায়াতের নিজস্ব ইতিহাস নয়, বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আন্দোলনের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে আয়োজকেরা দেখাতে চেয়েছেন—দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যায়ে ক্ষমতার বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনাগুলো কীভাবে ধারাবাহিকভাবে ঘটেছে।
৯. জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে প্রদর্শনীর কেন্দ্রীয় বিষয় করা হয়েছে
প্রদর্শনীর শেষ অংশ ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান’।
এখানে শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের ছবি রয়েছে। পাশাপাশি নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদসহ আন্দোলনের সমন্বয়কদের ছবিও রাখা হয়েছে।
আন্দোলনের সময় আহত ও গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী–সাধারণ মানুষের ছবিও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।
এতে স্পষ্ট যে প্রদর্শনীর প্রধান রাজনৈতিক বার্তা ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়েছে।
১০. ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ নামটির মধ্যেও একটি রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে
প্রদর্শনীর নাম ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’—এটি শুধু একটি শিরোনাম নয়, বরং আয়োজকদের একটি রাজনৈতিক বক্তব্যও বহন করে।
এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে শুধু ২০২৪ সালের একটি নির্দিষ্ট সময়ের আন্দোলন হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবর্তন, জবাবদিহি, অধিকার এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১১. আমিরের বক্তব্যে ‘নির্মোহ ইতিহাস’ তুলে ধরার দাবি
শফিকুর রহমান বলেছেন, ইতিহাসের যার যে কল্যাণকর অবদান আছে, সেগুলোর প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল।
এই বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আয়োজকেরা নিজেদের উপস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান থেকে হলেও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়কে তুলে ধরার চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য কোনো একটি সরকারের সফলতা প্রচার করা নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে জনগণ কীভাবে নিগৃহীত হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে কী ধরনের ঘটনা ছিল, সেটি তুলে ধরা।
১২. বিতর্ক থাকলেও প্রদর্শনীটি রাজনৈতিক আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে
জিয়াউর রহমানের ছবি নেই কেন—এই প্রশ্ন থেকেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। তবে এর ইতিবাচক দিক হলো, বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থান—সবগুলো বিষয়ই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু ইতিহাসকে নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা সামনে আসা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ।
১৩. বিএনপির প্রশ্নও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও প্রদর্শনীতে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেছেন, প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই আন্দোলনের ছবি থাকলেও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, কথা বা পোস্টার রাখা হয়নি।
বিএনপির পক্ষ থেকে এটি রহস্যজনক হিসেবে দেখা হলেও জামায়াত আমির এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ফলে বিষয়টি এখন দুই রাজনৈতিক পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যার জায়গায় দাঁড়িয়েছে।
TIME TV24-এর বিশ্লেষণ
‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ প্রদর্শনীকে ঘিরে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা নিঃসন্দেহে একটি আলোচিত বিষয়। তবে প্রদর্শনীর সামগ্রিক কাঠামো দেখলে এটিকে শুধু ‘কার ছবি আছে, কার ছবি নেই’—এই একটি প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ইতিহাস উপস্থাপনের পদ্ধতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নিজেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে মূলত বিভিন্ন সময়ের কর্তৃত্ববাদ, স্বৈরশাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং জনগণের আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। সেই নির্দিষ্ট কাঠামোয় জিয়াউর রহমানকে স্বৈরশাসক হিসেবে বিবেচনা না করায় তাঁর ছবি রাখা হয়নি—এটাই জামায়াতের ব্যাখ্যা।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণার ভূমিকা তুলে না ধরাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। ফলে ইতিহাসের একই অধ্যায়কে ঘিরে দুই রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশের ইতিহাস কোনো একক রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থান—সবই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ের অংশ।
তাই একটি প্রদর্শনীতে কোনো নির্দিষ্ট ছবি থাকা বা না থাকার বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন সব পক্ষের বক্তব্য, প্রেক্ষাপট ও ঘটনাগুলোকে পাশাপাশি দেখা।
‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ প্রদর্শনী সেই অর্থে একটি নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। আর এই আলোচনা থেকে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হতে পারে—বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে আরও তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক আলোচনা শুরু হওয়া।
TIME TV24-এর দৃষ্টিতে, ইতিহাসকে শুধু রাজনৈতিক পক্ষপাতের চোখে নয়—ঘটনা, প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য মিলিয়ে দেখাই হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।






