
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সোমবার
সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার একটি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না বলেও দাবি করেন। মরিয়ম কেন আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।
আদালতে রিমান্ড আবেদন
এর আগে সোমবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার দুই আসামির জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে পাঁচটি কারণ তুলে ধরেন।
বেলা ৩টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিকালে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে কাঠগড়ায় নিজেদের মধ্যে কথা বলতে দেখা যায়।
যেভাবে মরদেহ উদ্ধার
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয়।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।






