প্রকাশ: ৮ আগস্ট ২০২৬ | শনিবার | সকাল ১১ টা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত সালাউদ্দিন (২৬) নামে এক শিবিরকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে একই ঘটনায় আহত বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ মারা যান।
শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা।
তিনি জানান, গত ২১ জুন হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর সালাউদ্দিনকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
নিহত সালাউদ্দিন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। এ বিষয় নিয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের কথাকাটাকাটি হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
একপর্যায়ে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সংশ্লিষ্টরা চলে যান।
তবে এর কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা-সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চৌমাথায় হামলার অভিযোগ
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল সেখানে আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালান। হামলায় সালাউদ্দিনের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ঘটনায় সাইফুল্লাহও গুরুতর আহত হন।
হামলার পর স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢাকায় নেওয়ার পরও বাঁচানো গেল না
বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা বলেন, “দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকালে সালাউদ্দিন মারা গেছেন।”
সালাউদ্দিনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গত ২১ জুনের ওই হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দুইজনে দাঁড়াল। এর আগে ওই ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ নিহত হন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা
একই ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় রূপ নিল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিরোধ বা স্থানীয় কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে যেন সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেছেন তারা।
তবে হামলার ঘটনায় যাদের নাম স্থানীয়দের বক্তব্যে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে সালাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নিজ এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয়রা তার মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।






