
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তিনি Doctor of Philosophy (PhD) ডিগ্রিধারী। ছাত্রজীবনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়া—মিজানুর রহমানের এই পথচলা নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্মৃতিচারণামূলক পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে।
আবদুর রশিদ নামের একটি আইডিতে প্রকাশিত ওই পোস্টে মিজানুর রহমানের ছাত্রজীবনের বিভিন্ন ঘটনা ও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২০১৩-১৪ সালের দিকে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন সমমনা তরুণ।
স্মৃতিচারণায় বলা হয়, ওই সময় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আবু ছালেহ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, অলিউল্লাহ মোকাদ্দিসসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। তাঁদের মুক্তির দাবিতে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে লাগানোর জন্য কিছু পোস্টার দেওয়া হয়েছিল বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, রাতে কয়েকজন তরুণ একত্র হয়ে পোস্টারগুলো খুলে দেখেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ছবি ও তাঁদের বিষয়ে লেখা দেখে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগ তৈরি হয়। এরপর তাঁরা একসঙ্গে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
স্মৃতিচারণায় আরও বলা হয়, রাতে মিজানুর রহমান ও তাঁর বন্ধু আশিক ইবনে ইয়াকুব একটি বাটন মোবাইলে রাত ৩টার জন্য অ্যালার্ম সেট করেন। নির্ধারিত সময়ে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যান। সেখানে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
মোনাজাত শেষে ফজরের নামাজের আগে তাঁরা বাজার এলাকায় পোস্টার লাগানোর কাজ শেষ করেন বলে ওই স্মৃতিচারণায় উল্লেখ করা হয়। পরে ফজরের নামাজেও তাঁরা অংশ নেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, ফজরের নামাজের পর কয়েকটি পোস্টার মুসল্লিদের নজরে আসে। পোস্টারে কী লেখা রয়েছে, তা জানতে কয়েকজন মুসল্লি তাঁদের কাছে জানতে চান। পরে পোস্টারের লেখা পড়ে শোনানো হলে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি হয় বলেও লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।
স্মৃতিচারণায় আশিক ইবনে ইয়াকুবের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন মিজানুর রহমানের সমসাময়িক দায়িত্বশীল ও বন্ধু। ছাত্রজীবনের সেই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা তাঁদের কাছে এখনো স্মৃতি হয়ে আছে বলে পোস্টটিতে উঠে এসেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই লেখাটি মূলত ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা। সেখানে উল্লেখ করা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রেপ্তার ও অন্যান্য ঘটনার সব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি। তাই এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও স্মৃতিচারণা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মিজানুর রহমানের বর্তমান পরিচয়ের অন্যতম দিক তাঁর একাডেমিক কর্মকাণ্ড। তিনি Doctor of Philosophy (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তুরস্কের আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ইসলামী শিক্ষা ও কোরআনবিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর একাডেমিক কাজের উল্লেখ পাওয়া যায়।
একসময় ছাত্রজীবনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা মিজানুর রহমান বর্তমানে তুরস্কে উচ্চতর একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা নিয়ে প্রকাশিত স্মৃতিচারণামূলক লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।






