
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রবিবার | রাত ৮:৪৪ মিনিট
মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ পাওয়া গেলেই গ্রেপ্তার করা হবে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন কক্সবাজারের মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান। অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকানো এবং তরুণ সমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মহেশখালীতে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়িয়েছে থানা পুলিশ। মোবাইল ফোনে জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার, সংরক্ষণ কিংবা জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এমন অবস্থানের কারণে এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো, বেটিং ও জুয়ার প্ল্যাটফর্মে খুব সহজেই প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। দ্রুত ও সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় অনেক তরুণ এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন। প্রথমদিকে অল্প অর্থ দিয়ে শুরু হলেও একপর্যায়ে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
অনলাইন জুয়ার ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেন, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ছে।
মহেশখালী থানার পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের জুয়ার প্রলোভনে না পড়ে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দেশের অন্যান্য এলাকাতেও অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
তবে মোবাইলে কোনো জুয়ার অ্যাপ পাওয়া গেলেই গ্রেপ্তার বা শাস্তির ক্ষেত্রে কোন আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইন ও মামলার পরিস্থিতির ওপর। তাই আইনগত শাস্তি বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান যাচাই করা জরুরি।
মহেশখালী থানার ওসির এই সতর্কবার্তার পর স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে তরুণদের অনলাইন জুয়ার আসক্তি থেকে দূরে রাখা আরও সহজ হবে।
মহেশখালীতে পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের ফলে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যক্রম কতটা জোরদার হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। পাশাপাশি জুয়ার প্ল্যাটফর্মের প্রচার, অর্থ লেনদেন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতনরা।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © Time tv24






