
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | সোমবার | সকাল ৮:২০ মিনিট
একজন শিক্ষার্থীকে হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে ডেকে কর্মচারী দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, হলের খাবারের মান নিয়ে প্রভোস্টের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণেই তাকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও ছাত্র প্রতিনিধিরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তোলা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রায় সাত ঘণ্টা তাদের দাঁড় করিয়ে রাখার পরও কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে গড়িমসি করে। রাত ৯টার পর থেকে ফুটেজ দেখার ক্ষেত্রে ভিডিও ধারণ করা যাবে না—এমন শর্ত দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা তাতে রাজি হননি। পরে কয়েক দফায় আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে প্রথমে ১০ থেকে ১২ জন, এরপর ৩ থেকে ৪ জন এবং সর্বশেষ শুধু ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী ও হল ভিপিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিটি প্রস্তাবেই রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত ফুটেজ দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রোভিসি ও হল প্রভোস্ট বিষয়টির সমাধান না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির সুরাহা না করে চলে না যাওয়ার অনুরোধ জানান।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা চালান। হামলার সময় প্রোভিসি ও প্রভোস্টকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এফএইচ হলের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম এবং জিএস ইমামুল হাসান গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহত ইমামুল হাসান শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন, কোনো শিক্ষার্থী খাবারের মান নিয়ে সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট করলে তাকে কেন হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠবে এবং এর বিচার চাইতে গিয়ে কেন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটবে।
শিক্ষার্থীদের আরও প্রশ্ন, বিষয়টি যখন ছাত্র প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছিল, তখন সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা কী ছিল।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ দাবি করছেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঘিরে আন্দোলনের সময় ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের হামলার অভিযোগ যেভাবে আলোচিত হতো, বর্তমান ঘটনাতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তাদের অভিযোগ, শুধু হামলাকারীদের পরিচয় পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সংস্কৃতি বদলায়নি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রভোস্ট এবং ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতার জন্য সহপাঠীদের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত — TIME TV24






