প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬ | মঙ্গলবার | সকাল ৭:৫৮ মিনিট।

মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে বেতন উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার, সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা মহিউদ্দিনের প্রতিবাদ
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় মৃত এক শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে তজুমদ্দিন উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি তার অবস্থান তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মো. মহিউদ্দিন বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি একই নামের মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। তবে তিনি এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে বলেন, প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি জানান, তার নিজস্ব সরকারি ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব রয়েছে এবং তিনি গত প্রায় ১৭ বছর ধরে নিয়মিত ও বৈধ প্রক্রিয়ায় সেই হিসাব থেকেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মূল অ্যাকাউন্ট নম্বর ৮০৫, যা সরকারি নথিপত্রে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এ হিসাব থেকেই নিয়মিত বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। অপরদিকে সংবাদে উল্লেখিত ৪৬০৬ নম্বর অ্যাকাউন্ট বা সংশ্লিষ্ট ইনডেক্সের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
মহিউদ্দিন বলেন, “বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, আমি নাকি জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের অ্যাকাউন্ট ৪৬০৬ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা তুলেছি। অথচ বাস্তবতা হলো, আমার নিজস্ব অ্যাকাউন্ট নম্বর ৮০৫। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই সেই হিসাব থেকে বেতন গ্রহণ করছি। ৪৬০৬ নম্বর অ্যাকাউন্ট কিংবা সংশ্লিষ্ট ইনডেক্সের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, মৃত শিক্ষক ও তার নাম একই হওয়ায় অতীতে সরকারি দপ্তরে তথ্য সংরক্ষণের সময় প্রশাসনিকভাবে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বিভ্রান্তিকেই কেন্দ্র করে বর্তমানে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। বর্তমানে তিনি তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
মহিউদ্দিন বলেন, “আমার ব্যক্তিগত সম্মান, সামাজিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক পরিচিতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে। কায়েমি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি এসব মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে যদি কোনো ধরনের বিভ্রান্তি থেকে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করারও দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে মো. মহিউদ্দিন উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করতে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয় যে, স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার একই নামের মৃত এক শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে মো. মহিউদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হলে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।






