প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:৩৫ মিনিট

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অ্যাম্বুল্যান্স, অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার কিংবা অন্যান্য অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার না করার কঠোর নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) জারি করা এক জরুরি বার্তায় সংস্থাটি জানায়, এর আগে গত ২১ জুলাই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় আবারও এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সড়কে বিকট শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্নের ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৮১ নম্বর বিধি অনুযায়ী অ্যাম্বুল্যান্স, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবার নির্ধারিত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে বিভিন্ন সুরের বহুমুখী হর্ন, হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার অথবা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট ও ভীতিকর শব্দ উৎপাদনকারী কোনো হর্ন বা যন্ত্র স্থাপন, পুনঃস্থাপন এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিআরটিএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংস্থাটির মতে, অননুমোদিত হর্নের নির্বিচার ব্যবহার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে। অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার শব্দের মধ্যে অবস্থান করলে মানুষের শ্রবণশক্তি, মানসিক স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এছাড়া বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী এসব হর্ন অনেক সময় চালকদের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করে। ফলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং পথচারীসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহনে অবাধে হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটার ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যানজটপূর্ণ এলাকায় এসব হর্নের বিকট শব্দ সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিআরটিএ আবারও স্পষ্ট করেছে যে, জরুরি সেবার জন্য নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে এ ধরনের অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শব্দদূষণ কমানো এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব যানবাহনের মালিক ও চালকদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিআরটিএ আশা প্রকাশ করেছে, সবাই আইন মেনে চললে সড়কে শব্দদূষণ কমবে, জনভোগান্তি হ্রাস পাবে এবং নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সহজ হবে।






