প্রকাশকাল: ৪ আগস্ট ২০২৬ | মঙ্গলবার | সকাল ১০:২৫ মিনিট।

ছবি: ফাইল ছবি | মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
Time tv24 | নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ-৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। সফরকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে তার সম্মানে একটি বড় পরিসরের নাগরিক সংবর্ধনারও প্রস্তুতি চলছে।
সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পুরো যুক্তরাষ্ট্র সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হতে পারে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে যাবেন। সেখানে দুই দিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর সেখান থেকেই তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের সফর শুধু জাতিসংঘের নিয়মিত অধিবেশনে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সফরকালে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মূল মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। তার এই ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সংকট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এবারের অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান এবং একজন বাংলাদেশি সভাপতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সফরসূচি, বৈঠক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের সময়সূচিও সমন্বয় করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সফরকে সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন তারেক রহমান। প্রায় ২০ বছর পর তার এই সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নিউইয়র্কে তাকে স্বাগত জানাতে এবং সংবর্ধনা দিতে একটি বৃহৎ নাগরিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল যৌথ প্রস্তুতি সভা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের নিউইয়র্কে উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয় কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ্য, সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ থেকে ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। ওই সফরে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, করিডোর স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের আগে অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সফরের পরিকল্পনা আপাতত নেই। ফলে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করেই প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফরের প্রস্তুতি চলছে।






