প্রকাশ: ৮ আগস্ট ২০২৬ | শনিবার | সকাল ১০টা ১২ মিনিট

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক নারীর ঘর থেকে বস্ত্রহীন অবস্থায় আব্দুল মান্নান নামে এক যুবদল নেতাকে আটকের ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হরিনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে হরিনগর গ্রামের একটি বাড়িতে এক নারী ও যুবদল নেতা আব্দুল মান্নানকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়ির আশপাশে জড়ো হয়ে ঘরটি ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে ঘরের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বের করে আনা হয় বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘর থেকে বের করার পর আব্দুল মান্নানকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং সেখানে তাকে মারধর করা হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিওগুলোর কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা যুবদলের কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে যান। পরে তারা আব্দুল মান্নানকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আব্দুল মান্নান শ্যামনগর পৌরসভার চণ্ডীপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী ও আব্দুল মান্নান আগে থেকেই কর্মসূত্রে পরস্পরের পরিচিত ছিলেন। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবুল কাশেম ও আবু হামজাসহ স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা ওই নারীর বাড়ি ঘেরাও করেন। পরে ঘরের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বের করে আনা হয়। এরপর তাকে ঘরের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে তারা জানান।
তবে ঘটনাটি নিয়ে ওই নারীর পক্ষ থেকে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী নারীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে আব্দুল মান্নান তার বাড়িতে যেতেন এবং নানা ধরনের আপত্তিকর প্রস্তাব দিতেন। বৃহস্পতিবার বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তিনি ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে তাদের আটক করেন বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, এর আগেও আব্দুল মান্নানকে ঘিরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই অন্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠার পর পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ওই অভিযোগের বিস্তারিত এবং সে বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বর্তমান ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনার বিষয়ে দলীয়ভাবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে নেন বলে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা বা আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে ভবিষ্যতে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একজন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকে ঘিরে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক—দুই দিক থেকেই আলোচনায় এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে বিষয়টি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে কাউকে আটক করে মারধর করার অভিযোগের বিষয়টিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিক থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।






