প্রকাশকাল: ২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার | রাত ১২:৪০ মিনিট

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পরীক্ষা করা সব নমুনার মধ্যে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল-এ সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের ওপর পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরব্যাপী গবেষণা শেষে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পরীক্ষা করা সব নমুনার মধ্যে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল-এ সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
এসডো জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। পাশাপাশি বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (FTIR) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভিয়েতনামের পরীক্ষিত দুটি টুথপেস্টের দুটিতেই, থাইল্যান্ডের দুটির মধ্যে একটিতে এবং ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। টুথপেস্ট ব্যবহারের সময় এসব কণার একটি অংশ শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং অবশিষ্ট অংশ পানির মাধ্যমে নদী-খাল ও জলজ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষণ বাড়াতে পারে। তবে মানুষের স্বাস্থ্যে এর নির্দিষ্ট প্রভাব নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান।
এসডো টুথপেস্টসহ ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।





