একদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর বলে অপরদিকে ইরানের সাথে আলোচনায় রাজি ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে আরো আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি রাজি হয়েছেন। তবে একইসাথে তিনি আবারো দাবি করেছেন, দু’দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।

গত মাসের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তবে এ সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আবারো পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে বলে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরান দীর্ঘ কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করার তিন সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর চলতি সপ্তাহে দু’দিন ধরে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে।

এতে আবারো পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। আমরা এতে সম্মতি দিয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’

এর আগে চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনেও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের সাথে আলোচনা করা শুধু সময়ের অপচয়।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সমঝোতা স্মারকে সই করার পর সুইজারল্যান্ডে এক দফা সরাসরি আলোচনা করেছে। পাশাপাশি কাতারে পরোক্ষ আলোচনাও হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক অগ্রগতির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

যদিও ইরানের অবস্থান আরও ভয়ংকর

শুক্রবার কাতারের আমিরের সাথে মিসরের প্রেসিডেন্টের আলোচনায় দোহা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। এর মধ্যেই ইরান দাবি করেছে, তারা কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশ কাতার অভিযোগ করেছে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা করেছে।

ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ঘটনার পর কাতারের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আরো জোরদার করার চেষ্টা হিসেবে দেশটির একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করছে। ওই ঘটনার পর কাতার তাদের একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজে ইরানের ‘অগ্রহণযোগ্য হামলার’ অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়েছিল। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সঙ্ঘাতের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার কাতারের আমিরের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে তারা আলোচনা করেন।

শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথেও কথা বলেন এবং ‘কষ্টার্জিত শান্তি’ রক্ষার আহ্বান জানান বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

ইরানের আইএসএনএ বার্তাসংস্থাকে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান বিশ্বের দেশগুলোর অগ্রাধিকার। তবে সবাইকে জানতে হবে, ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই সঙ্ঘাত কখনো শেষ হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ইরানের জনগণ আত্মরক্ষার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র : বাসস

ছবি: ট্রাম্প ও খামেনি পুত্র

Newsletter Updates

Enter your email address below and subscribe to our newsletter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *