প্রকাশকাল: ৯ আগস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পী, তার বড় ভাই রাজিব হোসেন, আব্দুর রকিব, বকুল হায়দার, জাহিদ হাসান, ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম, তহিদুল হোসেন ও মাহামুদুল হাসানসহ আরও কয়েকজন।
অডিও রেকর্ড নিয়ে বিরোধ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীর অভিযোগ, শনিবার রাতে ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসানের একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তাদের হাতে আসে। ওই অডিওতে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা ও ছাত্রদলকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাপ্পীর ভাষ্য অনুযায়ী, অডিও রেকর্ডটির বিষয়ে জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন নাজমুলের কাছে যান। সেখানে জাহিদকে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বাপ্পী কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
বাপ্পীর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি নিজেসহ ছাত্রদলের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য
তবে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, অডিও রেকর্ড নিয়ে বিরোধের জেরে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে ছাত্রদলের ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. নাজমুল হাসান ও তার বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লাল্টু মেম্বারের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত ছিলেন এবং ঘটনার সময় সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতালে বিক্ষোভ
হামলার ঘটনার পর শনিবার রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এ সময় তারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি ও জেলা ছাত্রদল। সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
দুজনকে আটক করেছে পুলিশ
ঘটনার পর হামলায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড প্রকাশকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোনা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
তদন্তে মিলবে প্রকৃত ঘটনা
ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা সরাসরি জড়িত এবং আলোচনায় থাকা ফোনালাপের অডিও রেকর্ডটির সত্যতা—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে এলাকায় আরও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের চিকিৎসা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।






