প্রকাশকাল: সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ | বিকেল ৩:৩০ মিনিট

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর ঘরবাড়ি এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় থাকা এক ব্যক্তির প্রথম স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করে তাকে নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
রোববার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে রফিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। কিন্তু রফিউদ্দিন বিদেশে অবস্থানকালে তার প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুন অন্য এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তার সঙ্গে চলে যান।
পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার পাশাপাশি থানার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা হয়। সালিশ-বৈঠকের পর ছনিয়া খাতুন ওই ইতালি প্রবাসীর সঙ্গেই বসবাস করতে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ অবস্থায় দেশে ফিরে রফিউদ্দিন নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন এবং একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর প্রায় এক বছর রিমা খাতুনের সঙ্গে সংসার করেন রফিউদ্দিন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। পরে রফিউদ্দিন আবারও তার প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেন। একপর্যায়ে তাকে পুনরায় বিয়ে করে নিজের ঘরে তোলেন এবং পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।
এ ঘটনায় দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের অভিযোগ, রিমার ভবিষ্যৎ, সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক জীবনের কথা বিবেচনা না করেই রফিউদ্দিন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে রিমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তার পরিবারও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে।
স্থানীয়দের দাবি, রোববার সকাল প্রায় ১০টার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের লোকজন একটি মাটি কাটার এক্সকাভেটর (ভেকু) নিয়ে এসে রফিউদ্দিনের বসতঘর ও বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ঘটনাটি দেখতে আশপাশের মানুষ ভিড় করেন। তবে ঘটনার সময় রফিউদ্দিন দেশে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিষয়টিকে পারিবারিক বিরোধের চরম পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, “মুকুল হোসেনের মেয়েটি খুবই ভদ্র ও অমায়িক। একটি মেয়ের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা রফিউদ্দিনের মোটেও উচিত হয়নি। তবে ক্ষোভের বশে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর না করে আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হতে পারত।”
এদিকে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরায়েল বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক বিরোধ কিংবা দাম্পত্য কলহ যাই হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। এ ধরনের ঘটনায় উভয় পক্ষেরই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ অনুসরণ করা উচিত। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।






