নিজস্ব প্রতিবেদক | শরীয়তপুর | ৩ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার)

ছবি: প্রতীকী
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি ওই গৃহবধূর স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে নড়িয়া উপজেলার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তাকে দিয়ে মোবাইল ফোনে তার স্ত্রীকে সেখানে আসতে বলা হয়। ওই ব্যক্তিরা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার কথাও বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৃহবধূ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে একটি গাছের আড়ালে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। সেখানে দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি বারবার অনুনয়-বিনয় করলেও অভিযুক্তরা কোনো কথা শোনেননি। একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন রাব্বি (২৮), হজরত আলী খন্দকার (৪২) এবং ইমন খন্দকার (২৬)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে ভুক্তভোগীর স্বামীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক বিক্রিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তবে এই বিরোধের সঙ্গে অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার জানান, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এক নারীকে ভোরের দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। আলামত সংরক্ষণের অংশ হিসেবে সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর চিকিৎসা ও তদন্তে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী জানান, রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে ফোন করে তাকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে নির্জন স্থানে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার স্বামীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এরপর তাকে অন্য পাশে নিয়ে গিয়ে মুখ চেপে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনাটির প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






