প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২৬ | রোববার | রাত ৯:১৭ মিনিট

রাজধানীর উত্তরার উত্তরখান এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী এসটিএস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এ সময় একদল গার্মেন্টসকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা ওই কার্যক্রমে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনায় কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান এবং পুলিশের অন্যান্য সদস্য।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও উত্তেজনা কমেনি। বরং গার্মেন্টসকর্মী ও স্থানীয়দের একটি অংশ প্রশাসক, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তারা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের দিকে তেড়ে যান এবং তাদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ ও উপস্থিত কর্মকর্তাদের তৎপরতায় পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়নি।
আহতদের চিকিৎসা চলছে
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন। এর মধ্যে চারজন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত উত্তরা কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য ব্যক্তিও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহল জোরদার করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই কিছু বিরোধ ও অসন্তোষ ছিল। বর্জ্য অপসারণের পদ্ধতি, নির্ধারিত স্থান এবং কার্যক্রম পরিচালনার ধরন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সেই বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের বক্তব্য
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর উত্তরখান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যাবে।






