প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬ | রবিবার | সকাল ১০:২২ মিনিট

ছবি: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় গভীর রাতে এক তরুণীর বাড়িতে উপস্থিত থাকা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মাহ্ফুজ সরকার রাকিব
Time tv24 ডেস্ক:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় গভীর রাতে এক তরুণীর বাড়িতে উপস্থিত থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মাহ্ফুজ সরকার রাকিবকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাকে তরুণীর বাড়িতে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। পরে এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ওই তরুণীর সঙ্গে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (দিবাগত রাত) প্রায় ১টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোলদহ (সৈয়দপুর) গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের বাড়িতে যান মাহ্ফুজ সরকার রাকিব। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে ওই বাড়িতে দেখতে পেয়ে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং তাকে আটক করেন বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে আব্দুল জলিলের মেয়ে জুই আক্তারের সঙ্গে মাহ্ফুজ সরকার রাকিবের ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একজন ছাত্রসংগঠনের জেলা সভাপতিকে ঘিরে এমন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ফেসবুকসহ নানা প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।
তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন মাহ্ফুজ সরকার রাকিব। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগের রাতে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কনের বাড়িতে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছিল এবং তিনি সেই কারণেই সেখানে অবস্থান করছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলো আংশিক ও খণ্ডিতভাবে ধারণ করা হয়েছে। তার মতে, এসব ভিডিও প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে না এবং তার ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই সেগুলো প্রচার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু জানান, মাহ্ফুজ সরকার রাকিব ও জুই আক্তারের মধ্যে আগে থেকেই পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, গভীর রাতে এলাকাবাসীর হাতে আটকের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শুক্রবার ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকেও সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। তবে এ ঘটনায় মাহ্ফুজ সরকার রাকিবের বক্তব্য এবং স্থানীয়দের বর্ণনায় স্পষ্ট ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় মানুষ।
সূত্র: আমার দেশ ও স্থানীয় সূত্র।






