প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, রোববার | বিকেল ৪:৪০ মিনিট
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ‘কুমিল্লা’ নামের একটি ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া এক নারীকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কচুরিপানা আঁকড়ে ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যাওয়ার পর ফরিদপুরের কবিরপুর চর এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে আজ রোববার তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম মোসা. লাইজু (৩৯)। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদ ঝাউচর এলাকার বাসিন্দা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ‘কুমিল্লা’ ফেরিটি দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রাত ৮টার দিকে ফেরিটি মাঝনদীতে পৌঁছালে ডেক থেকে অসাবধানতাবশত লাইজু পদ্মা নদীতে পড়ে যান।
ঘটনার পরপরই ফেরির মাস্টার বিষয়টি দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বরত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। একই সঙ্গে দুই ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়িকেও খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌ পুলিশের সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ফরিদপুরের কবিরপুর চর এলাকায় কচুরিপানা ধরে ভেসে থাকা অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা কচুরিপানা আঁকড়ে ধরে দীর্ঘ সময় পানিতে ভেসে থেকে নারীর বেঁচে ফেরাকে অলৌকিক বলেই মনে করছেন।

ছবি: পদ্মা নদীতে ‘কুমিল্লা’ ফেরি থেকে পড়ে যাওয়া নারীকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে (সংগৃহীত)





