বিশ্বকাপ জিতে ৬১৫ কোটি টাকা স্পেনের, আর্জেন্টিনাসহ কোন দল পেল কত প্রাইজমানি?

প্রতিবেদন: Time tv24 ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা নেমেছে বর্ণাঢ্য সমাপ্তির মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর, যেখানে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় ৪৮টি দেশ। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপ আলোচনায় ছিল রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কারের কারণেও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ঘোষণা দিয়েছিল, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য আগের আসরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয় ৮৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার সমান।

ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। দীর্ঘ এক মাসের লড়াই শেষে বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরবের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়েছে স্প্যানিশদের। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্পেন পাচ্ছে ৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৫ কোটি টাকার সমান। একদিকে শিরোপা, অন্যদিকে বিপুল অঙ্কের এই প্রাইজমানি—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সফল দল এখন স্পেন।

অন্যদিকে, ফাইনালে পরাজিত হলেও রানার্সআপ আর্জেন্টিনার প্রাপ্তিও কম নয়। লিওনেল মেসিদের দল প্রাইজমানি হিসেবে পাচ্ছে ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা। যদিও শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেছে, তবুও বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পুরস্কার হিসেবে এই অর্থ দলটির জন্য বড় অর্জন।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ড পাচ্ছে ২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যার পরিমাণ প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা। আর চতুর্থ স্থান অর্জনকারী ফ্রান্সের প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা।

শুধু সেমিফাইনালে ওঠা দলগুলিই নয়, নকআউট পর্বের প্রতিটি ধাপেই রাখা হয়েছে উল্লেখযোগ্য অর্থ পুরস্কার। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া চারটি দল প্রত্যেকে পাচ্ছে ১ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৩৩ কোটি টাকা। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া আটটি দল পাচ্ছে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৮৪ কোটি টাকা। আর শেষ ৩২-এর নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১৬টি দল প্রত্যেকে পাচ্ছে ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার সমান।

গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলোকেও খালি হাতে ফিরতে হয়নি। ফিফার ঘোষণায়, গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাচ্ছে ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১০ কোটি টাকার সমান। অর্থাৎ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ নিয়ে নিজ দেশে ফিরেছে।

এর বাইরেও প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলকে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই প্রস্তুতি, অনুশীলন, ভ্রমণ, আবাসন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সাংগঠনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার করে অনুদান দিয়েছে ফিফা। ফলে কোনো দলকেই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আরও বেশি দেশকে বৈশ্বিক ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তুলনামূলক ছোট ফুটবল দেশগুলোর জন্য এই অর্থ ভবিষ্যতের অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলোয়াড় তৈরির কর্মসূচি এবং জাতীয় ফুটবলের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সব মিলিয়ে মাঠের উত্তেজনা, দর্শক উপস্থিতি, নতুন ফরম্যাট এবং বিপুল অর্থ পুরস্কারের সমন্বয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিহাসের অন্যতম সফল ও ব্যয়বহুল আসর হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। আর বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় আর্থিক পুরস্কার জিতে এবারের আসরের সবচেয়ে বড় বিজয়ী হিসেবে নাম লিখিয়েছে স্পেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *