হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে হামলার মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | শনিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক | Time TV24

রাজধানীর হাজারীবাগে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদাম পরিদর্শন করে পুলিশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবারের মধ্যে সমঝোতা না করলে তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকিদাতা জানিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে মামলার বাদী ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিনের কাছে ফোন করে এ হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি মামলার বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। হুমকিদাতার সঙ্গে বাদীর কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে। অডিওটি যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনাও মামলার তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও সাইফুল ও জুয়েল নামের দুই ব্যক্তি এখনো গ্রেপ্তার হননি। তাঁদের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তের চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফোনে সমঝোতার চাপ, না হলে হত্যার হুমকি

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে হুমকিদাতা প্রথমে মামলার বাদী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। পরে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে শনিবারের মধ্যে যোগাযোগ করে সমঝোতার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। অন্যথায় তাঁর প্রাণহানির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

কথোপকথনের একপর্যায়ে আফসার উদ্দিন ফোনকারী ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। তখন ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় স্পষ্ট না করে তাঁকে হুমকি দেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।

এ ঘটনায় মামলার বাদী ও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে।

জমির ভাড়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে জমির ভাড়া তাঁকে দেওয়ার দাবি জানায়।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জমির ভাড়া ইমনকে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে তাঁদের অভিযোগ।

হামলার সময় গুদাম ও কার্যালয়ের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কয়েক লাখ টাকার পণ্য এবং সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

মামলায় আটজন গ্রেপ্তার

ঘটনার পর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত চলছে।

মামলার বাদীকে দেওয়া নতুন হত্যার হুমকির ঘটনায় পুলিশ অডিও রেকর্ড যাচাই করছে। তদন্ত শেষে হুমকিদাতার পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

Newsletter Updates

Enter your email address below and subscribe to our newsletter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *