
প্রকাশকাল: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) র্যাগিংয়ের ঘটনায় সাত শিক্ষার্থীকে এক ও দুই বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় আরও দুই শিক্ষার্থীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় এসব শাস্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মা-বাবাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী হলেন ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. নাজমুস সাকিব।
এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ হোসেন সরকার এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মিসকাত জাহান মুসফিক, ইউনুস হোসেন হিরাত, সাইদুর রহমান সিফাত ও সানোয়ার হোসেন তানিম। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইসতিয়াক আহমেদ ইফতিকেও এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাজমিম তন্নীকে ১০ হাজার টাকা এবং সোহানুর রহমান সিফাতকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ জুলাই ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে নবীন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে র্যাগিং করা হয়।
এ ঘটনায় মুশফিকুর রহমান তুহিন নামে এক নবীন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অতিরিক্ত ঘামতে থাকেন এবং তাঁর মধ্যে প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা যায়।
পরে রাত ৮টার দিকে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশকে অবহিত করেন। রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং র্যাগিং প্রতিরোধে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।






