প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | সোমবার | সকাল ৯টা

ছবি: রোহিঙ্গা ক্যাম্প
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তবে নয় বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। পরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।
রোহিঙ্গারা বলছেন, তারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না। নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। তবে আবার নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা চান।
এদিকে মিয়ানমারের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ক্যাম্পে শত শত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সশস্ত্র ও অপরাধী চক্রও সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অপরাধ দমনে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযানে অস্ত্র, গুলি, বোমা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
ক্যাম্পের বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও দীর্ঘদিনের এই সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে পরিবেশ, বনভূমি, শ্রমবাজার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নারী ও কিশোরীরাও বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য ও সুযোগের অভাবে বাল্যবিবাহ, মানবপাচার, নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে ঝরে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। তবে সেখানে ফেরার আগে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তারপরও বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©
Disclaimer: The information published by Time tv24 is collected from available sources and is published in good faith for public interest. Allegations mentioned in any report are presented as allegations and do not constitute a final determination of guilt. Shaplapur News does not intend to defame or harm the reputation of any individual, organization, or institution. If any information is found to be inaccurate or requires correction, please contact us for appropriate review and correction.
© 2026 Time tv24. All Rights Reserved.



