তারিখ: ২১ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার

ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল (৪৫)
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মুজাহিদুল ইসলাম ওরফে বুলবুল (৪৫)-কে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ সিফাত নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মুজাহিদুল ইসলাম বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার বাদী ছিলেন তিনি।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন মুজাহিদুল। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের অভিযোগ।
স্বজনদের দাবি, ওই সময় গ্যারেজ থেকে ১৮টি রিকশা লুট করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট মুজাহিদুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। শেখ সিফাত ছিলেন মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি।
পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই সেটি তুলে নিতে মুজাহিদুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে স্বজনেরা দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সালেহনগর এলাকায় মুজাহিদুলকে একা পেয়ে কয়েকজন ঘিরে ধরেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হামলাকারীরা তাঁকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মুজাহিদুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুজাহিদুল হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বন্দরে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। এ সময় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার সকালে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে রাতে বিক্ষোভের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত শেখ সিফাত ও তাঁর স্বজনদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহত মুজাহিদুল ইসলামের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বের মামলাটি তুলে না নেওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।






