
প্রকাশকাল: ১১ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী নাবিহা নওরিন। ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২৫১ নম্বর পেয়ে তিনি জেলার সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর নাবিহা নওরিনের এই অসাধারণ ফলাফল পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে। মেধা, অধ্যবসায় ও নিয়মিত প্রস্তুতির মাধ্যমে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
রামুর মাঝিরকাটা গ্রামের মেয়ে নাবিহা
নাবিহা নওরিন কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মুনির উদ্দিন আহম্মদ শুকমনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং মা শাহিদা আক্তার মাঝিরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
শিক্ষক পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি নাবিহার ছিল গভীর আগ্রহ। পরিবারের সদস্যদের উৎসাহের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা তাকে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করে তোলে।
‘ফার্স্ট গার্ল’ হিসেবে পরিচিতি
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই নাবিহা নওরিন ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করে আসছেন। কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। বিদ্যালয়ের ‘ফার্স্ট গার্ল’ হিসেবেও তিনি পরিচিত।
নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন ঘটেছে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে।
প্রস্তুতিতে প্রবাহ কোচিং সেন্টার
এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রবাহ কোচিং সেন্টারে কোচিং করেছেন নাবিহা নওরিন। পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের প্রস্তুতি, নিয়মিত অনুশীলন ও বিষয়ভিত্তিক চর্চায় কোচিংয়ের শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাও তার প্রস্তুতিতে সহায়ক হয়েছে।
প্রবাহ কোচিং সেন্টারে নিয়মিত ক্লাস ও অনুশীলনের মাধ্যমে পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান নাবিহা। তবে তার এই ফলাফলের পেছনে নিজের নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়কেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিকূলতার মধ্যেও থামেননি নাবিহা
এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি নাবিহা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পড়াশোনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং শিক্ষকদের পরামর্শ অনুসরণ করে নিজেকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেন।
ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে তার প্রাপ্ত নম্বর ১ হাজার ২৫১। এই ফলাফলের মাধ্যমে তিনি কক্সবাজার জেলার সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দ
নাবিহার এমন সাফল্যে তার পরিবারে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং তার সহপাঠীরাও আনন্দিত। তার সাফল্যে খুশি প্রবাহ কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরাও।
নাবিহার এই অর্জনকে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ধারাবাহিক প্রস্তুতির ফল হিসেবে দেখছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।
দোয়া চেয়েছেন মামা
নাবিহার মামা ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর সেলিম তার এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি নাবিহার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও উচ্চশিক্ষার পথচলা আরও সুন্দর ও সফল হওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
আগামীর স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা
এসএসসিতে জেলার সেরা নম্বর অর্জনের পর নাবিহা নওরিনের সামনে এখন উচ্চশিক্ষার নতুন পথ। পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তার মেধা ও পরিশ্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজার জেলার সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের এই সাফল্য নাবিহার ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি তার পরিবার, বিদ্যালয় এবং তার শিক্ষাজীবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যও গর্বের বিষয়। মেধা, অধ্যবসায় ও সঠিক দিকনির্দেশনার সমন্বয়ে একজন শিক্ষার্থী যে বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে, নাবিহা নওরিনের ফলাফল তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।






