প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, রবিবার | সকাল ৮:৫৪ মিনিট | প্রতিবেদন: Time tv24 ডেস্ক

ছবিঃ বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান; উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গণভোটের ফল কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা। কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতারা বর্তমান বিএনপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং গণভোটের ফল উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিজয়-২৪ হল, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম, বিভিন্ন আবাসিক হল এবং ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জোহা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করেছে। তার ভাষায়, সরকার গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে এবং জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে।
মেহেদী হাসান বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার দাবি, সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করলেও গণভোটে জনগণের যে রায় এসেছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের ৭০ শতাংশের সমর্থন পাওয়া গণভোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের সময় বিএনপি যে অবস্থান নিয়েছিল, বর্তমানে ক্ষমতায় এসে তারা তার বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপিকে ‘জাতীয় মুনাফেক ও বেইমানের দল’ বলে মন্তব্য করেন।
সমাবেশে তিনি বিএনপি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে ছাত্রশিবির দেশব্যাপী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার এবং আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল— “জুলাই সনদ মেনে নে, নইলে গদি ছাড়ে দে”, “গণভোটের গণরায় মানতে হবে”, “লীগ ধর, জেলে ভর”, “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?”সহ আরও বিভিন্ন স্লোগান।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীবের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনটির অফিস সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শামীম পাটোয়ারী আরও দাবি করেন, সরকার যদি সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি আন্তরিক থাকত, তাহলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারত। তিনি বিএনপির প্রতি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে হবে।
উল্লেখ্য, ছাত্রশিবিরের এই কর্মসূচিতে উত্থাপিত বক্তব্য ও অভিযোগগুলো বক্তাদের নিজস্ব দাবি। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।






