📅 প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | শুক্রবার | 🕒 প্রকাশের সময়: দুপুর ২:৪০ মিনিট
ঢাকা: হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে তার নাম এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ইতোমধ্যে একই মামলায় আমিনুর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, এমপি গাজী নজরুল বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলার এজাহারের কয়েকটি বিষয়ে ধোঁয়াশা থাকায় সেসব বিষয় পরিষ্কার করতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তার শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর বাসায় ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন গাজী নজরুল। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান দলবল নিয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেন এবং ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন।
অন্যদিকে, গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেছেন, এমপি গাজী নজরুল তাকে মারধর করেছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের কারণে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে মাঠপর্যায়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
গত মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর জামায়াতে ইসলামী জানায়, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে গত বুধবার জামায়াতে ইসলামী সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলটি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রাকিব খান বলেন, “মামলার তদন্ত চলছে।”
মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আমিনুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
মামলার এজাহারে বাদী ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তিনি পল্লবীতে বসবাস করেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলামের ওই বাসায় যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে তার ভাগ্নির সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি এমপিকে এমন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি কিছু আপত্তিকর ভিডিও সংগ্রহ করে একটি চক্র গাজী নজরুল ইসলামকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের সন্দেহ ছিল, ওই ভিডিও ধারণ ও ফাঁসের সঙ্গে ওবায়দুর রহমান জড়িত। সেই বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেন। পরে সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান।

ছবি: গাজী নজরুল ইসলাম (সংগৃহীত)






