প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | রবিবার | দুপুর ১২টা

ছবি: শাপলাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল হক (বামে) আহত অবস্থায় এবং (ডানে) ফাইল ছবি।
শাপলাপুর প্রতিনিধি (হোসনে মুবারক)
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের খুশিয়ারপাড়ায় জাল হারানো ও ছাগল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে শাকের উল্লাহর সঙ্গে খুশিদা বেগম (৩৯) ও তার ছেলে তুহিন (২০)-এর মধ্যে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি ঝগড়ায় রূপ নেয়।
এ ঘটনায় খুশিদা বেগম ও তার ছেলে তুহিনসহ অসহায় পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ফিরুজের ছেলে শাকের উল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল হকও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাপলাপুরের আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা সাত্তারের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। পরিবারটির সদস্যরা দরিদ্র ও অসহায় হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সম্প্রতি তাদের একটি ছাগলসহ কিছু জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সাত্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে শাকেরউল্লাহর বিরুদ্ধে ছাগল চুরির অভিযোগ করা হয়।
পরিবারটির অভিযোগ, ছাগল চুরির বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ ও অভিযোগ করায় শাকেরউল্লাহ ও তার লোকজন তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় সাত্তারের পুত্রবধূ (খুশিদা বেগম) ও নাতি (তুহিন) কে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল হক ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি হামলা বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং অসহায় পরিবারটির ওপর হামলার প্রতিবাদ জানান।
নুরুল হকের স্বজনদের অভিযোগ, হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসায় শাকেরউল্লাহ ও তার সহযোগীরা সাবেক চেয়ারম্যানের ওপরও হামলা চালান। একপর্যায়ে ইট ও কাঠের টুকরা দিয়ে তাকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে নুরুল হকের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে মহেশখালী হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
নুরুল হকের স্বজনরা বলেন, “ছাগল চুরির অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু অভিযোগের তদন্ত না করে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মারধর করা এবং তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসা সাবেক চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তারা আরও বলেন, “অসহায় পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে। তাদের বাঁচাতে চেয়ারম্যান এগিয়ে গেলে তাকেও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ছাগল চুরির অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা উচিত। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা দরকার। কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা বা মারধর গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে শাকেরউল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা ছাগল চুরির অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে করা হামলার অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©
Disclaimer: The information published by Timetv24.info is collected from available sources and is published in good faith for public interest. Allegations mentioned in any report are presented as allegations and do not constitute a final determination of guilt. Shaplapur News does not intend to defame or harm the reputation of any individual, organization, or institution. If any information is found to be inaccurate or requires correction, please contact us for appropriate review and correction.
© 2026 Timetv24.info. All Rights Reserved.






