
প্রকাশকাল: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | রাত ৮টা ৩০ মিনিট
সিলেটের চার কওমি আলেমের জামায়াতে যোগদান, যা বললেন আলী হাসান উসামা
সিলেট বিভাগের চারজন কওমি আলেম ঢাকায় এসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন কওমি মাদরাসা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন আলী হাসান উসামা।
আলী হাসান উসামার ভাষ্য অনুযায়ী, যোগদানকারীদের মধ্যে হুসাইন সারওয়ার একাধিক মাদরাসায় মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি খতিব ও বক্তা হিসেবেও দ্বীনের খেদমতে যুক্ত ছিলেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে অপর একজন ২০০৭ সালে ইসলাম গ্রহণের পর আলিম শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন ইসলামি মাহফিলে বক্তব্য রাখেন। বাকি দুজনও বিভিন্ন দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের খেদমতের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
আলী হাসান উসামা বলেন, কওমি অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করা এসব আলেমের জামায়াতে যোগদানের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য সহজ কোনো বিষয় নয়। কারণ, রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার পর তাদের সামাজিক ও পেশাগত নানা ধরনের চাপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব কিংবা বক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর জামায়াতে যোগ দিলে তাদের নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও অপপ্রচার হতে পারে। বিশেষ করে তারা যেসব মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগে যুক্ত ছিলেন, সেখানকার রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ভিন্নতার কারণে বিরোধিতা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলী হাসান উসামা বলেন, সংগঠনটিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে কেউ দুনিয়াবি সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা পান না। বরং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক সময় সামাজিক চাপ, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে কর্মস্থল হারাতে পারেন। আবার আর্থিক ও সামাজিক টানাপোড়েনের কারণে নতুন করে জীবন শুরু করার মতো পরিস্থিতিতেও পড়তে পারেন। এসব কারণে সংগঠনে যুক্ত হওয়ার পর কেউ কেউ একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হুসাইন সারওয়ারের প্রসঙ্গে আলী হাসান উসামা বলেন, তিনি মাদরাসা-মসজিদের খেদমতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে এসব দায়িত্ব হারানোর পরও তিনি জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তাঁর দাবি, হুসাইন সারওয়ারের বর্তমানে ভালো একটি মোবাইল ফোনও নেই। মোবাইল চুরি যাওয়ার পর নতুন ফোন কেনার সামর্থ্যও তাঁর হয়ে ওঠেনি। এ অবস্থার মধ্যেও তিনি জামায়াতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান আলী হাসান উসামা।
হুসাইন সারওয়ারের জামায়াতে যোগদানকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তুলতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ ধরনের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
আলী হাসান উসামা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সমালোচনা থাকতেই পারে। তবে সমালোচনার ক্ষেত্রে মিথ্যাচার বা ব্যক্তিগত অপবাদ থেকে বিরত থাকা উচিত।
তিনি নতুন যোগদানকারী চার কওমি আলেমের জন্য দোয়া করে বলেন, আল্লাহ যেন তাদের ত্যাগ কবুল করেন এবং দ্বীনের ওপর অটল থাকার তাওফিক দেন।
সিলেটের চার কওমি আলেমের জামায়াতে যোগদানের ঘটনাটি নিয়ে কওমি অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
© ২০২৬ TIME TV24 — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






