নিজস্ব প্রতিবেদক | Time TV24

ছবি: এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও নম্বর পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার প্রতীকী চিত্র।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর ফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তার এক বন্ধু। পরে ওই বন্ধুর অজান্তে তার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা হয়। পুনঃনিরীক্ষণের পর দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীটি ফেল করেছে। ফল পরিবর্তনের এ ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা তদন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও পুনঃনিরীক্ষণে বড় ধরনের অসংগতির অভিযোগও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১২ লাখ পাস করে। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণের পর প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু পরীক্ষক যথাযথভাবে খাতা মূল্যায়ন করেননি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক নিজের পরিবর্তে অন্যকে দিয়ে খাতা দেখিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কথা জানান মন্ত্রী।
বন্ধুর ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন
শিক্ষামন্ত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর ফল নিয়ে তার এক বন্ধুর সন্দেহ ছিল। ওই বন্ধু মনে করত, শিক্ষার্থীটি জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো ফল করার কথা নয়। পরে সে বন্ধুর পরিচয়ে তার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে।
মন্ত্রী জানান, পুনঃনিরীক্ষণের পর ওই শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তিত হয়ে অকৃতকার্য দেখায়। তাঁর বক্তব্যে, একটি বিষয়ে শূন্য নম্বরকে ৮৫ এবং ১৩ নম্বরকে ৮৩ নম্বরে পরিবর্তন করে জিপিএ-৫ দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এ ধরনের অস্বাভাবিক নম্বর পরিবর্তনের পেছনে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ঘটনায় কারা নম্বর পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে মামলা করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, পরীক্ষক কিংবা পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিচয় তিনি বক্তব্যে প্রকাশ করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য থেকে স্পষ্ট নয়।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুনঃনিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের বিষয়টি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে পরীক্ষক পরিবর্তন, প্রশিক্ষণ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে নম্বর পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষক বা ব্যক্তিকে অনিয়মের জন্য দায়ী বলে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা যায় না।






