টাইম টিভি২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় এসব তথ্য জানানো হয়। আদালত তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সময় পেল তদন্তকারী দল।
বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরবর্তী আদেশের জন্য ২০২৭ সালের ২৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থিত হয়ে অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
তদন্তে যেসব তথ্য উঠে এসেছে
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্তে ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কিছু ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে জিওলোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য, এসএমএস এবং কল ডিটেইল রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের কাছে থাকা প্রায় ৩০০টি সিডি পর্যালোচনার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে প্রাসঙ্গিক আলামত পেলে তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
কেন আরও ছয় মাস সময়
অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা ও তদন্তের বাকি কাজ শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষ এক বছর সময় চাইলেও আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেছেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, তদন্তের অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে এবং কয়েকটি সিডি ও দুই ব্যক্তির নামের প্রসঙ্গ এসেছে। তবে শুধু নাম উল্লেখ করলেই হবে না; সংশ্লিষ্টতার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০টি সিডির মধ্যে ৯০টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বাকি সিডিগুলো পর্যালোচনা করে তদন্তের অগ্রগতি আদালতে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
২০১২ সালে খুন হন সাগর-রুনি
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সে সময় সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনে এবং রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে আগ্রহ রয়েছে।
মামলাটির তদন্তে নতুন করে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলো যাচাই করে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ এখনো চলমান। আগামী ২৯ এপ্রিল ২০২৭ তারিখে আদালতে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
সম্পাদনা নোট: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
প্রকাশক: Time TV24






